এ কেমন বন্ধুত্ব?’ বিজেপির আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিল তিপ্রা মথা
বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তিপ্রা মথার জোটসঙ্গীদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিজেপি ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করতেই ক্ষুব্ধ তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। ‘এ কেমন বন্ধুত্ব?’ প্রশ্ন তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে বন্ধুত্বের মর্যাদা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন চড়িলামের তিপ্রা মথা বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা, এমডিসি বুদ্ধকুমার দেববর্মা এবং দলের নেতা তথা আইনজীবী জাকির হোসেন।

চড়িলাম, ৪ নভেম্বর।। বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তিপ্রা মথার জোটসঙ্গীদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিজেপি ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করতেই ক্ষুব্ধ তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। ‘এ কেমন বন্ধুত্ব?’ প্রশ্ন তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে বন্ধুত্বের মর্যাদা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন চড়িলামের তিপ্রা মথা বিধায়ক সুবোধ দেববর্মা, এমডিসি বুদ্ধকুমার দেববর্মা এবং দলের নেতা তথা আইনজীবী জাকির হোসেন। বুধবার আটটি আসনে প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান।
তিপ্রা মথা নেতৃত্বের বক্তব্য, মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেই হয় না, তার প্রমাণও দিতে হয়। বিজেপি যদি ১১টি আসনের মধ্যে ৫:৫ অনুপাতে অথবা ৬:৫ অনুপাতে আসন ভাগ করে নিত, তাহলে জোটসঙ্গীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যথাযথ মর্যাদা বজায় থাকত। কিন্তু মাত্র একটি আসন তিপ্রা মথার জন্য ছেড়ে দিয়ে বাকি ১০টি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করাকে তাঁরা বন্ধুত্বের অপমান বলেই মনে করছেন। এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন দলের নেতৃত্ব।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার দুপুরে বিশ্রামগঞ্জ মিনি স্টেডিয়াম সংলগ্ন তিপ্রা মথার দলীয় কার্যালয় থেকে আটজন প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে বিশালগড়ের রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দিতে যান দলের নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন প্রার্থীদের প্রস্তাবক ও সমর্থকরাও। বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েতের ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিপ্রা মথা কার্যত বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে। নেতৃত্বের দাবি, বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় তাঁদের দলের সাংগঠনিক ভিত্তি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে নগর পঞ্চায়েত দখল করাই তাঁদের লক্ষ্য।
এদিকে, বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৮২৮ জন। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন চড়িলাম মণ্ডলের সহ-সভাপতি তথা বিশ্রামগঞ্জ বাজার এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন দাস। তাঁর বিরুদ্ধে তিপ্রা মথার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাপ্পি দাস। দুই দলের পরিচিত মুখের লড়াইয়ে এই ওয়ার্ডে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখছেন তিপ্রা মথা নেতৃত্ব।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিপ্রা মথা নেতৃত্বের দাবি, এবারের বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াই হবে জমজমাট। তবে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে এই প্রকাশ্য অসন্তোষ নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বন্ধুত্বের প্রশ্ন তুলে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কোন দিকে মোড় নেয়, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলে।