Pratibadi KalamPratibadi Kalam
ব্রেকিংপ্রথম পাতা

ত্রিপুরায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার উদ্যোগ CJP-র, যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের বার্তা

বেকারত্ব, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সমস্যার মতো একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে যুবকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী অরাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার CJP-র ত্রিপুরা ইউনিটের উদ্যোগে আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

Pratibadi Kalam Newsroom2 মিনিট পড়া
ত্রিপুরায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার উদ্যোগ CJP-র, যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের বার্তা

আগরতলা: ত্রিপুরায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে CJP। বেকারত্ব, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সমস্যার মতো একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে যুবকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী অরাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার CJP-র ত্রিপুরা ইউনিটের উদ্যোগে আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন CJP নেতা শাহিদ এবং মণিপুর থেকে আগত সংগঠনের নেতা নূর শাহ। এছাড়াও ত্রিপুরায় সংগঠনের দায়িত্বে থাকা শুভম, প্রণব ও অপ্রজিত-সহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন। শাহিদ জানান, শুধু ত্রিপুরা নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক আলোচনা চালানো হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ত্রিপুরায় এসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও বিস্তৃত করা এবং আঞ্চলিক সমস্যা ও ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কীভাবে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

শাহিদ বলেন, ত্রিপুরার যুবসমাজের সামনে বেকারত্ব, স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়ে যুবকদের সংগঠিত করে একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন, CJP কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়; সংগঠনটি অরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবেই কাজ করতে চায়। তাঁর বক্তব্য, সরকারে যে দলই থাকুক না কেন, সংবিধান মেনে চলা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করা প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব।

তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ত্রিপুরা ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে, ত্রিপুরার যুব প্রতিনিধি শুভম বলেন, রাজ্যের যুবসমাজ নানা সমস্যার সম্মুখীন। সেই সমস্যাগুলি যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে ঘোড়া কেনাবেচা এবং বিধায়কদের দলবদলের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার সুরক্ষা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কারের দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, সংবিধান মেনেই নির্বাচন পরিচালিত হওয়া উচিত এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কোনওভাবেই খর্ব করা চলবে না।

যুবসমাজকে সংগঠিত করে রাজ্যের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরব হওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাংবাদিক সম্মেলন। এখন দেখার, ঘোষিত পরিকল্পনাকে কতটা দ্রুত সাংগঠনিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে পারে CJP-র ত্রিপুরা ইউনিট এবং রাজ্যের যুবসমাজকে এই উদ্যোগে কতটা সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয় তারা।