Pratibadi KalamPratibadi Kalam
প্রথম পাতা

পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগে ১,৩৮৩ পদের মধ্যে ৫২৯টি শূন্য!

ডাবল ইঞ্জিনের সাড়ে আট বছরের শাসনে পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগে শূন্যপদের পাহাড় ! ১৩৮৩ পদের মধ্যে ৫২৯টি ফাঁকা

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগে ১,৩৮৩ পদের মধ্যে ৫২৯টি শূন্য!

ত্রিপুরায় ডাবল ইঞ্জিন সরকারের শাসনে উন্নয়ন, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারের শেষ নেই। কিন্তু পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগের কর্মীসংকট নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে তা ভয়াবহ। এই তথ্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং নিয়োগব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগ, সড়ক, সেতু, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত কারিগরি বিভাগে একের পর এক পদ খালি পড়ে রয়েছে। উন্নয়নের পরিকল্পনা কাগজে তৈরি হলেও সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কর্মী কোথায়—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। পূর্ত দপ্তরের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, কারিগরি বিভাগের মোট ১,৩৮৩টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৫২৯টি পদ শূন্য। অর্থাৎ, সূত্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মোট পদের প্রায় ৩৮ শতাংশই কর্মীশূন্য। এই পরিসংখ্যান সরকারি নথিতে যাচাই করা গেলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগ শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর একটি অংশ নয়; রাস্তা নির্মাণ, সেতুর পরিমাপ, নির্মাণসামগ্রীর গুণমান পরীক্ষা, প্রকল্পের নকশা তৈরি এবং বিভিন্ন পরিকাঠামোগত কাজের কারিগরি তদারকির সঙ্গে এই কর্মীদের ভূমিকা জড়িত।

পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে কাজের গতি, নজরদারি এবং প্রকল্পের সময়সীমা রক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ, Senior Draftsman, Senior Surveyor, Scientific Officer এবং Laboratory Assistant—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে কোনও কর্মচারী কর্মরত নেই। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে কর্মরত কর্মীরা অবসর নেওয়ার পর নতুন নিয়োগ না হওয়ায় বিভাগটি কার্যত কর্মীশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এই চারটি ক্যাটাগরির বর্তমান শূন্যপদের নির্দিষ্ট হিসাবও সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।‌সূত্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, Senior Draftsman-এর ২৯টি, Senior Surveyor-এর ২৭টি, Scientific Officer-এর ৫টি এবং Laboratory Assistant-এর ১৫টি পদ শূন্য। অর্থাৎ, এই চারটি বিভাগেই মোট ৭৬টি শূন্যপদের দাবি করা হচ্ছে। এর বাইরেও Work Assistant, Junior Surveyor, Junior Draftsman, Junior Research Assistant, Junior Overseer এবং Tracer-সহ একাধিক ক্যাটাগরিতে কয়েকশো পদ খালি পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে সমস্যাটি কেবল একটি বা দুটি পদে সীমাবদ্ধ নয়; কারিগরি বিভাগের বিভিন্ন স্তরে কর্মীসংকটের একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে আসছে। প্রশ্ন হলো, এই কর্মীসংকটের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের কাজের পরিমাপ, নকশা, গুণমান পরীক্ষা এবং প্রকল্পের তদারকি কীভাবে হচ্ছে ?

পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক কাজের দায়িত্ব কীভাবে সামলানো হচ্ছে ? পর্যাপ্ত কর্মী ছাড়া কোনও প্রকল্প পরিচালনা করা একেবারে অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। তবে প্রয়োজনীয় পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে অতিরিক্ত কাজের চাপ, প্রকল্পে বিলম্ব এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সরকারের উচিত এই প্রশ্নগুলির তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়া। আরও গুরুতর অভিযোগ, বর্তমানে এই শূন্যপদগুলি পূরণের জন্য কোনও কার্যকর নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে না বলে দপ্তরীয় সূত্রের দাবি। যদি তা সত্যি হয়, তাহলে অবসরজনিত শূন্যতা পূরণে পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কোন পদে কতজন কর্মী প্রয়োজন, কতদিন ধরে পদগুলি খালি, নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না এবং নিয়োগের সম্ভাব্য সময়সীমা কী—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। কর্মী অবসর নেবেন, এটি প্রশাসনের কাছে অজানা ঘটনা নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনা না থাকলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সরকারি পরিষেবা ও সাধারণ মানুষের ওপরই পড়তে পারে। কর্মসংস্থানের প্রশ্নেও সরকারের অতীত প্রতিশ্রুতি আলোচনায় আসছে। উন্নয়নের ঘোষণা যত বড়ই হোক, তা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ কর্মীবাহিনী অপরিহার্য। পূর্ত দপ্তরের কারিগরি বিভাগে ১,৩৮৩টি পদের মধ্যে ৫২৯টি শূন্য থাকার অভিযোগ সত্য হলে, বিষয়টি আর নিছক দপ্তরীয় সমস্যা নয়; এটি জনবল পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি প্রকল্পের জবাবদিহির প্রশ্ন। সরকারকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে—কোন পদে কত শূন্যতা, নিয়োগ কবে শুরু হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির কারিগরি তদারকি কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ, শূন্যপদ পূরণ না হলে উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে বাধা তৈরি হতে পারে, তার মূল্য শেষ পর্যন্ত দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই।