Pratibadi KalamPratibadi Kalam
প্রথম পাতা

৯২০ কোটির রাস্তা এখন বিভীষিকা

অসমাপ্ত রাস্তার স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত, নির্মাণ কাজের জন্য কেটে রাখা অংশে নিত্য দুর্র্ভেগে পড়ছে সাধারণ মানুষ৷ যানবাহন নিয়ে যারা আসছে তারা তো বটেই এমনকি যারা হেঁটে চলতে অভ্যস্ত তারাও বুঝে গিয়েছে অন্ধকার যুগ কাকে বলে৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা এনএইচআইডিসিএল’র উপর নির্ভর না করে পূর্ত দপ্তরকে সাময়িকভাবে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার দায়িত্ব নিতে হয়েছে৷ এই প্রশ্ণ, চার লেনের কাজ শুরু হয়েছে তা কেন শেষ হলো না নির্ধারিত সময়ে?

Pratibadi Kalam Newsroom4 মিনিট পড়া
৯২০ কোটির রাস্তা এখন বিভীষিকা

প্রতিবাদী কলম প্রতিনিধি আগরতলা ৮ অক্টোবর৷৷ খয়েরপুর -চম্পকনগর সড়কের মানুষ সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখন রীতিমতো অন্ধকার যুগে৷ যে যুগে পরিকল্পিত রাস্তাঘাট ছিল না, মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিপদসংকুল রাস্তা পাড়ি দিতে হতো সেই সময়টাই যেন ফিরে এসেছে এই অঞ্চলে৷ এই সড়কে ৯২০ কোটি টাকার চার লেনের রাস্তা মানুষকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে৷ কোটি কোটি টাকার প্রকল্প৷ লক্ষ্য ছিল আধুনিক চার লেনের সড়ক৷ নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ গত ২৮ সেপ্ঢেম্বর, সেই নির্ধারিত সময় শেষ৷ অথচ মাত্র ৪৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ আর মানুষকে নিয়ে গিয়েছে এক বিভীষিকাময় যুগে৷ ৫২ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত৷ শতাংশের হিসেবে মানুষের দুর্র্ভেগ বোঝা যাবে না৷

অসমাপ্ত রাস্তার স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত, নির্মাণ কাজের জন্য কেটে রাখা অংশে নিত্য দুর্র্ভেগে পড়ছে সাধারণ মানুষ৷ যানবাহন নিয়ে যারা আসছে তারা তো বটেই এমনকি যারা হেঁটে চলতে অভ্যস্ত তারাও বুঝে গিয়েছে অন্ধকার যুগ কাকে বলে৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা এনএইচআইডিসিএল’র উপর নির্ভর না করে পূর্ত দপ্তরকে সাময়িকভাবে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার দায়িত্ব নিতে হয়েছে৷ এই প্রশ্ণ, চার লেনের কাজ শুরু হয়েছে তা কেন শেষ হলো না নির্ধারিত সময়ে? খয়েরপুর-চম্পকনগর অংশের এই সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৯.১১ কিলোমিটার৷ ২০২৪ সালে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়৷ অনুমোদিত ব্যয় ৯২০ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা৷ কাজের বরাত দেওয়া হয় নিউ ইন্ডিয়া কন্ট্রাক্টর অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে৷

২০২৪ সালের ২৮ সেপ্ঢেম্বর কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল৷ চুক্তি অনুযায়ী ২৪ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২৮ সেপ্ঢেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা৷ কিন্তু কাজের পরিণতি এতটাই নির্মম যে এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে৷ ভিন রাজ্যের সংস্থা এবং ঠিকাদার এই ৪৮ শতাংশ কাজের বিল জমা দিয়েছে এবং সেটা মঞ্জুর হয়েছে৷ টাকা নিয়ে তারা গায়েব৷ শ্রমিকদের মজুরি দেয়নি তারা বলে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ৷ বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ঠিকাদার প্রায়ই শহরে আসে৷ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কথাবার্তা হয়৷ প্রত্যেকটি সন্ধ্যা মধুময় হয়ে ওঠে৷

কিন্তু শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি নিয়ে যে প্রশ্ণ তার উত্তর আর পাওয়া যায় না৷ রাস্তা নির্মাণের নামে মানুষকে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাওয়া অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি না দিয়ে তাদেরকে দুর্দশায় ফেলা সবকিছুই হচ্ছে এই চার লেনের সড়কের দৌলতে৷ যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে, সেই রাস্তার বর্তমান অবস্থা এক কথায় অন্ধকার যুগকে মনে করিয়ে দিচ্ছে৷ জায়গায় জায়গায় বিশাল গর্ত, কোথাও রাস্তা উঁচু নিচু, আবার কোথাও নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে৷ ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ধুলো, ঝাকুনি এবং যানজট সব মিলিয়ে দুর্র্ভেগ চরমে৷ বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটো, ছোট গাড়ি এবং গণপরিবহণের চালকদের জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন৷ প্রশ্ণ শুধু কাজের গতি নিয়ে নয়৷ প্রশ্ণ, নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের চলাচলের রাস্তা নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখার ব্যবস্থা কোথায়?

অভিযোগ উঠেছে নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে রাস্তা চলাচলের উপযোগী রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সঠিকভাবে করা হয়নি৷ বলা যায় কিছুই করেনি তারা৷ অথচ ৪৮ শতাংশ কাজের বিল নিয়ে দিব্যি বাড়ি চলে গেছে৷ ঘোটালা ছাড়া কি এই রাজ্যে তাহলে কিছুই হবে না? প্রশাসনিক সূত্রে খবর রাজ্য সরকারের তরফে অনেকবার এনএইচআইডিসিএল’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি৷ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত সপ্তাহে রাজ্যে প্রশাসনিক আধিকারিক, পূর্ত দপ্তর এবং এনএইচআইডিসিএল’র আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক হয়৷ সেই বৈঠকে আপাতত রাজ্যের পূর্ত দফতরকে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷

জানা গেছে, পূজার আগেই খয়েরপুর -চম্পকনগর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ত দপ্তর৷ কিন্তু এখানেই শেষ নয়৷ মূল চার লেন সড়কের প্রকল্পের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে৷ নতুন নির্ধারিত সময়সীমা আগামী বছরের ৩১ মার্চ৷ অর্থাৎ ২৪ মাসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আরো কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হচ্ছে৷ তাই প্রশ্ণ, ৯২০ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হলো না কেন? নির্মীয়মান রাস্তার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে কিভাবে পালন করছে? কাজের অগ্রগতি যদি ৪৮ শতাংশ হয় তাহলে বাকি ৫২ শতাংশ কাজ নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নিশ্চয়তা কি?

ঠিকাদার পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন৷ শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া৷ পালিয়ে গেলেও ঠিকাদার মাঝে মাঝেই আগরতলায় আসে৷ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে৷ কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে কোন কথাই হয় না৷ শ্রমকল্যাণ দপ্তরও এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব৷ নির্মাণ কাজের নামে দিনের পর দিন দুর্র্ভেগকে সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষকে৷ চার লেনের রাস্তা চায়৷ কিন্তু এর জন্য যে একেবারে অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে হবে তারা এটা জানতো না৷ স্বপ্ণ দেখিয়ে যদি মানুষকে গর্ত, ধুলো আরো দুর্র্ভেগের রাস্তা দেওয়া হয় তাহলে প্রশ্ণ উঠবে উন্নয়নের রাস্তা কোথায় আর তার দায় কে নেবে?