Pratibadi KalamPratibadi Kalam
ব্রেকিংপ্রথম পাতা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলেজে দ্বি-দিবসীয় জাতীয় আলোচনা চক্র বিষয়: “সাহিত্য-বিজ্ঞান: বর্তমান প্রেক্ষিত”

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলেজের বাংলা বিভাগ, অভ্যন্তরীণ গুণমান নির্ণায়ক শাখা (IQAC) ও গবেষণা উন্নয়ন শাখার (RDC) উদ্যোগে এবং ত্রিপুরার ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতির সহযোগিতায় “সাহিত্য-বিজ্ঞান: বর্তমান প্রেক্ষিত” শীর্ষক ২-৩ নভেম্বর ২০২৬ দ্বি-দিবসীয় জাতীয় আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে।

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলেজে দ্বি-দিবসীয় জাতীয় আলোচনা চক্র বিষয়: “সাহিত্য-বিজ্ঞান: বর্তমান প্রেক্ষিত”

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলেজের বাংলা বিভাগ, অভ্যন্তরীণ গুণমান নির্ণায়ক শাখা (IQAC) ও গবেষণা উন্নয়ন শাখার (RDC) উদ্যোগে এবং ত্রিপুরার ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতির সহযোগিতায় “সাহিত্য-বিজ্ঞান: বর্তমান প্রেক্ষিত” শীর্ষক ২-৩ নভেম্বর ২০২৬ দ্বি-দিবসীয় জাতীয় আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বন্দেমাতরম্‌ গান পরিবেশন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর দেশাত্মবোধক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আলোচনা চক্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধক‌ করেন ঔপন্যাসিক শ্রী দিলীপ রায়। তিনি বলেন সাহিত্যের সৃজনশীলতায় বিজ্ঞানমনস্কতার প্রতিফলনসাহিত্য কেবল কল্পনার প্রকাশ নয়, এটি জীবন ও সমাজের বাস্তবতার প্রতিফলন। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যের চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করে। প্রধান অতিথি তথা পঞ্চবান ঘরনা সাহিত্যের উপদেষ্টা শ্রী সুশান্ত ঘোষ আলোচনায় বলেন,কেবল কল্পনার প্রকাশ নয়, এটি জীবন ও সমাজের বাস্তবতার প্রতিফলন।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যের চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করে। সাহিত্য মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে, বিজ্ঞান যুক্তিবাদী চেতনার বিকাশ ঘটায়। কুসংস্কারমুক্ত ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে উভয়ের ভূমিকা অপরিহার্য। মুখ্য আলোচক, তথা লেখক ও গবেষক শ্রী অমলেশ ঘোষ বলেন, সাহিত্য কি বিজ্ঞান? তা অনুসন্ধান জরুরি। যুক্তি, তথ্য ও গবেষণার আলোকে পর্যালোচনাসাহিত্য ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য সত্যের অনুসন্ধান। পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধিৎসা দুই জ্ঞানধারারই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশেষ বক্তা তথা ভারত জ্ঞান বিজ্ঞানের সহ সচিব অধ্যাপক উৎপল চন্দ্র দে বলেন,সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য সত্যের অনুসন্ধান। পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধিৎসা দুই জ্ঞানধারারই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।কল্পবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের বাস্তবায়নে সাহিত্যের অগ্রবর্তী ভূমিকাকল্পবিজ্ঞান ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সম্ভাবনাকে সাহিত্যের মাধ্যমে আগাম তুলে ধরে। তিনি বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে খুব সহজে ছাত্র ছাত্রীদের সামনে সেমিনার গুরুত্ব তুলে ধরেন । তাঁর বক্তব্যের মূল দর্শন— “সাহিত্য আগে, বিজ্ঞান পরে; সাহিত্য মননে, বিজ্ঞান মগজে।” সাহিত্য স্বপ্ন ও কল্পনার জন্ম দেয়, বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে।

গবেষণা উন্নয়ন শাখার সমন্বয়ক ড. রাহুল ভট্টাচার্য বলেন সাহিত্য ও বিজ্ঞানের আন্তঃসম্পর্কে গবেষণার নতুন দিগন্তকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও মানবসভ্যতার পরিবর্তন সাহিত্য ও বিজ্ঞানের আন্তঃবিষয়ক গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অভ্যন্তরীণ গুণমান নির্ণায়ক শাখার সমন্বয়ক ড. আশীষ কুমার রায় বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সাহিত্য ও বিজ্ঞানচর্চার সমন্বয়সাহিত্য ও বিজ্ঞানের সমন্বিত চর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিকতা, যুক্তিবাদী মনন ও গবেষণার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। উক্ত সেমিনারের রিসোর্স পার্সেন্ট অধ্যাপক মালাকার বলেন সাহিত্য ও বিজ্ঞান যমজ ভাই মত, একে অপরের পরিপূরক। সাহিত্য সত্যের সন্ধান করে আর বিজ্ঞান তার পুর্ণতা দেয়।

দ্বিদিবসীয় জাতীয় আলোচনা চক্রের সভাপতি তথা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মনোরঞ্জন দাস বলেন মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় সাহিত্য ও বিজ্ঞানের সমন্বিত দর্শন, সাহিত্য ও বিজ্ঞান মানবসভ্যতার দুটি পরিপূরক শক্তি। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে গতিশীল করে, সাহিত্য সেই জীবনকে মানবিক করে তোলে। বিদ্যাসাগরের যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সাহিত্য ও বিজ্ঞানচর্চার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তিনি বলেন এই আলোচনা চক্রের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে সাহিত্য মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, বিজ্ঞান সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শেখায়। সাহিত্য সভ্যতার মনন, বিজ্ঞান সভ্যতার মেধা—আর উভয়ের সম্মিলনেই মানবসভ্যতার পূর্ণতা।” তিনি আরো বলেন এই জাতীয় আলোচনা চক্রের মধ্য দিয়ে সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক, সমকালীন সমাজে তাদের প্রাসঙ্গিকতা এবং গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিকগুলি উন্মোচিত হবে।

উক্ত সেমিনারের বিভিন্ন কলেজে থেকে আসা অধ্যাপক , গবেষক ও ছাত্র ছাত্রীরা তাদের পেপার উপস্থাপন করেন। পরিশেষে সেমিনারের ওরানাইজিং সেক্রেটারি অধ্যাপক সৌভিক বাকচি এই আলোচনা চক্রের সফলতায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সাহায্যকারী সহকর্মী ছাত্র ছাত্রীদের,রাজ্য ও বহিঃ রাজ্যের বক্তা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।ও সেমিনারের কনভেনার ডঃ রাজীব লাল দেববর্মা বলেন,সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিশিষ্ট আলোচক ও উপস্থিত সকলকে এই জাতীয় আলোচনা চক্রে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই।

সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে এই আয়োজন আমাদের চিন্তা ও মননকে সমৃদ্ধ করবে।আশা করি, আপনাদের মূল্যবান আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নতুন ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হবে।সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করে এই আলোচনা চক্রের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য প্রার্থনা করছি।