৩০০ কোটির ডিএ, ৫০০০ চাকরির সুযোগ হাতছাড়া
প্রশ্ণ হলো, সরকার যদি কর্মচারীদের ডিএ’র ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে নতুন নিয়োগের জন্য কেন অর্থ সংকট? চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া বেকারদের দায়িত্ব কে নেবে? ৩০০ কোটি’র ডিএ’র সিদ্ধান্ত সরকারের সামনে প্রশ্ণ ছুঁড়ে দিয়েছে ‘তোমরা কি শুধু কর্মচারীদের জন্য? বেকারদের কোন প্রয়োজন নেই তোমাদের?’ এককথায় এই ৩ শতাংশ ডিএ রাজ্য সরকারকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই৷

প্রতিবাদী কলম প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ অক্টোবর ঃ ১ অক্টোবর থেকে রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারী ও পেনশনারদের ৩ শতাংশ হারে ডিএ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ কর্মচারীরা উৎফুল্ল৷ পূজার আগে এই অপ্রত্যাশিত আনন্দ সংবাদে তারা মুখরিত৷ এই আবহে প্রশ্ণ উঠেছে যে, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বেকারদের কি হবে? সরকারি নিয়োগ নীতি কি বিষয়টাকে সমর্থন করে?
৩ শতাংশ হারে ডিএ প্রদানের ফলে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বছরে ৩০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে৷ চলতি আর্থিক বছরে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই ব্যয়ের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা৷ একটু উল্টোভাবে চিন্তা করা যাক৷ বছরে ৩০০ কোটি টাকা খরচ করলে ১০ হাজার বেকার যুবক-যুবতিকে সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব হবে৷
আর বছরে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করলে ১ হাজার বেকারের চাকরি হবে৷ বর্তমানে রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা যে পরিমাণ বেতন এবং ভাতা পায় তাতে তাদের সংসার প্রতিপালন করতে কোন অসুবিধাই হয় না৷ বরং রাজসিকভাবে তারা সংসার প্রতিপালন করতে পারে৷ মধ্যবিত্তের উপরের শ্রেণিতে তারা জায়গা করে নিয়েছে৷ অথচ সরকারের নজর শুধু কর্মচারীদের সন্তুষ্টির দিকে৷ এটাই কি একটি কল্যাণকামী সরকারের একমাত্র দায়িত্ব৷ যারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে তাদের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই সরকারের?
খুব স্পষ্টভাবে বললে রাজ্য সরকারের এই বেকার বিরোধী নীতির ফলে কর্মহীন মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে৷ অবস্থা সহসা বদলে যাবে এমন সম্ভাবনাও নেই৷ রাজ্য সরকার কতটা বেকার বিরোধী তা এই ৩ শতাংশ ডিএ প্রদানের ঘোষণাতেই স্পষ্ট৷ অথচ এই ৩ শতাংশ ডিএ প্রদান করতে বাৎসরিক যে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে তাতে ১০ হাজার বেকারের চাকরি দেওয়া সম্ভব৷ বেকার যুবক-যুবতিদের মুখে হাসি ফোটানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব৷ কিন্তু আমরা কি দেখছি?
একটি সরকারি চাকরির আশায় শীর্ষস্তরের মেধাবী যুবক-যুবতিরা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষায়৷ অথচ সরকারি নজরে শুধু তাদের কর্মচারীরা৷ চলতি বছরের মার্চ মাসে কর্মচারী এবং পেনশনারদের জন্য ৫ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি করা হয়েছিল৷ কয়েক মাসের মধ্যে ফের ৩ শতাংশ৷ কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত গতিশীল৷ কিন্তু বেকার যুবক-যুবতিদের ক্ষেত্রে সেই গতি হারিয়ে যায়৷ ডিএ বাবদ বছরে ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার৷ তাহলে সেই আর্থিক সক্ষমতার একটা অংশ ব্যবহার করে শূন্য পদ পূরণ, নিয়োগ পরীক্ষা এবং বৃহৎ কর্মসংস্থান অভিযান কেন জোরদার করা হবে না?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ৩০০ কোটি টাকা শুধু একটি আর্থিক অঙ্ক নয়, এটি সরকারের অগ্রাধিকারের প্রতীক৷ সেই অর্থ যদি নতুন কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবহার করা হয় তাহলে বহু পরিবারের আয়ের রাস্তা খুলে যেতো৷ রাজ্যে বর্তমানে বেকারদের পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক তার ইঙ্গিত সরকারি পরিসংখ্যানেও রয়েছে৷ পিএলএফএস ২০২৫ অনুযায়ী রাজ্যে ১৫-২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১১.৩ শতাংশ৷ অর্থাৎ কর্মসংস্থানের সংকট শুধু বিরোধীদের প্রচার নয়, সরকারি তথ্য৷ প্রশ্ণ উঠেছে যে, রাজ্য সরকার কি কর্মরত ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? তাই ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে৷ একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আর্থিক সুবিধার ঘোষণা অন্যদিকে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার যুবক-যুবতি৷ একদিকে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অন্যদিকে চাকরির বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় বেকাররা৷
প্রশ্ণ হলো, সরকার যদি কর্মচারীদের ডিএ’র ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে নতুন নিয়োগের জন্য কেন অর্থ সংকট? চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া বেকারদের দায়িত্ব কে নেবে? ৩০০ কোটি’র ডিএ’র সিদ্ধান্ত সরকারের সামনে প্রশ্ণ ছুঁড়ে দিয়েছে ‘তোমরা কি শুধু কর্মচারীদের জন্য? বেকারদের কোন প্রয়োজন নেই তোমাদের?’ এককথায় এই ৩ শতাংশ ডিএ রাজ্য সরকারকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই৷